|
দেবকুমার মুখোপাধ্যায়
- জোনাকি, শহরে এখন তোমার খুব নামডাক। জীবনের সেরা সময়টা অপরের ঘর সাজিয়ে কাটালে। এবার নিজের ঘরের খবর বলো -
- ঠিকই বলেছ অকৈতব, কোন কোন ঘর সাজিয়ে মনে হয়েছে ; বিনিময় মূল্য নয়, ঐরকম একটা ঘর পেলে বাকি জীবনটা বেশ কাটিয়ে দেওয়া যেত। - কাগজে ছোট্ট একটা বিঞ্জাপন - জোনাকি রয় (ইন্টিরিয়র ডেকরেটর) দেখেই ভ্রাম্যভাষ এ ডাকলাম তোমাকে... অবচেতন বলল - ওকেই ডাক... - ফার্স্ট ইয়ার কলেজে আমার অনেক ভক্ত ছিল। তাদের মধ্যে অকৈতব মুখার্জি নামে তুমিও একজন। - ওরে ব্বাস্ ! তুমি তখন ফুটন্ত দুধের মত ওৎলাচ্ছ। ভয়ে কাছে ঘেঁসিনি। - ওসব কথা থাক অকৈতব। এই নাও তোমার ঘরের চাবি। আমার কাজ শেষ। জানো, আজই তোমার অফিসে আসার আগে 'বাবুইবাসা এপার্টমেন্টে' এ তোমার দোতলার ফ্ল্যাটে ফাইনাল চেক-আপ এ গিয়েছিলাম। বারান্দায়, যেখানে তোমার দোলনা ঝুলছে, দাঁড়িয়ে দেখছিলাম - শহরতলির নির্জনে, সামনে দিঘী, ওপারে তালবাঁদিতে গাছে গাছে অসংখ্য বাবুই বাসা... - ওদের জোনাকির আলো আছে, আমার নেই। - হতাশ হয়োনা। আজকাল প্রমান সাইজের রোবট মেয়ে পাওয়া যায়। হাতে রিমোট থাকলেই তোমার সঙ্গে কথা বলবে, সঙ্গ দেবে, গান শোনাবে- - থাক্। খেয়ালী বাতাসে ভর করে অনেকগুলো বছর কেটে গেল। আমি পুতুল খেলা করতে চাইনি জোনাকি। অকপটে তোমাকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি- - আজ উঠি অকৈতব। ভাবি। ভাবনা শেষ হলে চলে আসব একদিন - উঠে দাঁড়িয়ে হাতখানা বাড়িয়ে দেয় অকৈতব। * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * এক সন্ধ্যায় শুধু বৃষ্টি আর বৃষ্টি। জোনাকি এল 'বাবুইবাসা এপার্টমেন্ট'এ। বাইরে চরাচর জুড়ে বৃষ্টি নেমেছে তখন। ঘরে খাটের ওপর অকৈতবের মুখে ছড়িয়ে পড়েছে জোনাকির আলো, - ক্রমশ ঢুকে যাচ্ছে আরও গভীরে। বড় তিব্র এই ছড়িয়ে পড়া। সেই আলোতে অকৈতব তার এতদিনের ধরাবাঁধা ছকটাকে দ্রুত সাজিয়ে নিচ্ছে নতুন করে। জোনাকি চোখ মেলে। তার ঘোলা চোখের দিগন্তে, কোন এক নিরুদ্দশের ওপার থেকে ভেসে আসছে একজোড়া বাবুই।
|