
‘জামাকাপড় কাচা’ এবং ‘কূপের গাধা’ দুটি সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প, মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, এর অন্তর্নিহিত অর্থ আমাদের ভাল মানুষ হতে সাহায্য করবে।
1. জামাকাপড় কাচা – সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প (Motivational story-1 )

এক তরুণ দম্পতি একটি নতুন বাড়িতে এসে বসবাস করতে লাগল । পরের দিন সকালে যখন তারা ব্রেকফাস্ট খাচ্ছিল, তখন তরুণী মহিলাটি তার প্রতিবেশীকে বাইরে কাপড় শুকাতে দিতে দেখল।
“ওই জামাকাপড়গুলো তো একেবারেই পরিষ্কার নয়; মহিলাটি ঠিকমতো ধুতে জানে না। সম্ভবত তার আরও ভালো ডিটারজেন্ট দরকার।”
তার স্বামী চুপচাপ বসে দেখছিল, কোনো কথা বলল না। প্রতিবার যখনই প্রতিবেশী কাপড় শুকাতে দিত, তরুণী মহিলাটি একই মন্তব্য করত।
এক মাস পর, তরুণী মহিলাটি পরিষ্কার জামাকাপড় দেখে অবাক হয়ে তার স্বামীকে বলল, “দেখো, অবশেষে সে ঠিকমতো ধুতে শিখেছে। কে তাকে এটা শিখিয়েছে, কে জানে?”
স্বামী উত্তর দিল, “আমি আজ সকালে তাড়াতাড়ি উঠে আমাদের জানালাগুলো পরিষ্কার করেছি।”
জীবনটাও ঠিক এমনই… অন্যদের দেখার সময় আমরা যা দেখি, তা নির্ভর করে আমরা যে জানালা দিয়ে দেখি, তার স্বচ্ছতার উপর। তাই অন্যদের বিচার করতে খুব তাড়াহুড়ো করো না, বিশেষ করে যদি জীবনের প্রতি তোমার দৃষ্টিভঙ্গি রাগ, ঈর্ষা, নেতিবাচকতা বা অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা দ্বারা মেঘাচ্ছন্ন থাকে।
“অন্যকে বিচার করা তার পরিচয় দেয় না। এটা তোমার পরিচয় দেয়।”
আরও পড়ুন: প্রতিটা কাজ হতে পারে শেষ কাজ: শিক্ষণীয় একটি গল্প
গল্পের বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
‘জামাকাপড় কাচা’ গল্পটি একটি সাধারণ ঘটনার মাধ্যমে জীবনের একটি গভীর সত্য তুলে ধরে। নতুন বাড়িতে আসা তরুণী প্রতিবেশী মহিলার কাপড় ধোয়ার পদ্ধতি নিয়ে ক্রমাগত সমালোচনা করে। তার মনে হয়, মহিলাটি ঠিকমতো কাপড় ধুতে জানে না। আসলে, তরুণীর মন ছিল নেতিবাচকতায় পরিপূর্ণ। সে তার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই সবকিছু বিচার করছিল।
এক মাস পর, যখন সে দেখে যে প্রতিবেশীর কাপড়গুলো পরিষ্কার, তখন সে অবাক হয়ে যায়। তার মনে প্রশ্ন জাগে, কে মহিলাটিকে কাপড় ধোয়া শিখিয়েছে। তখন তার স্বামী জানায় যে সে সকালে তাদের জানালা পরিষ্কার করেছে। এর মাধ্যমে স্বামী বোঝাতে চান যে, জানালা নোংরা থাকার কারণে তরুণী প্রতিবেশীর কাপড় নোংরা দেখছিল। জানালা পরিষ্কার হওয়ার পর, সবকিছু পরিষ্কার দেখাচ্ছে।
এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, আমরা যখন অন্যদের বিচার করি, তখন আসলে আমরা নিজেদেরকেই বিচার করি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি যদি নেতিবাচকতায় ভরা থাকে, তাহলে আমরা সবকিছুতেই নেতিবাচকতা দেখব। আর যদি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হয়, তাহলে আমরা সবকিছুতেই ইতিবাচকতা দেখতে পাব।
‘জামাকাপড় কাচা‘ গল্পের মূল শিক্ষা:
- দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব: আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। আমরা যেভাবে বিশ্বকে দেখি, বিশ্বও আমাদের কাছে সেভাবেই ধরা দেয়।
- অন্যদের বিচার না করা: অন্যদের বিচার করার আগে, আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরীক্ষা করা উচিত।
- ইতিবাচক চিন্তা: ইতিবাচক চিন্তা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তোলে।
- আত্ম-বিশ্লেষণ: নিজের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করে সংশোধন করা উচিত।
- সহানুভূতি: অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।
এই ‘জামাকাপড় কাচা‘ গল্পটি একটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমাদের উচিত নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে জীবনকে সুন্দর করে তোলা। আমাদের উচিত অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং অন্যদের বিচার করার আগে নিজেদের বিচার করা।
2. কূপের গাধা – একটি সুন্দর মোটিভেশনাল গল্প (Motivational story-2 )

এক কৃষকের গাধা একদিন হঠাৎ করে একটি কূপে পড়ে গেল। প্রাণীটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা করুণভাবে চিৎকার করতে লাগল, আর কৃষক কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। অবশেষে, তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে প্রাণীটি বৃদ্ধ হয়ে গেছে, এবং কূপটি এমনিতেও বন্ধ করে দেওয়া দরকার-গাধাটিকে উদ্ধার করা আর লাভজনক নয়।
তিনি তার সকল প্রতিবেশীকে ডেকে আনলেন এবং তাদের সাহায্য করতে বললেন। তারা সবাই একটি করে কোদাল নিল এবং কূপে মাটি ফেলতে শুরু করল। প্রথমে, গাধাটি বুঝতে পারল কী ঘটছে এবং ভয়ানকভাবে চিৎকার করতে লাগল। তারপর, সবার বিস্ময়ের জন্য, সে চুপ হয়ে গেল।
কয়েক কোদাল মাটি ফেলার পরে, কৃষক অবশেষে কূপের দিকে তাকালেন। তিনি যা দেখলেন তাতে অবাক হয়ে গেলেন। তার পিঠে প্রতিটি কোদাল মাটি পড়ার সাথে সাথে, গাধাটি আশ্চর্যজনক কিছু করছিল। সে মাটি ঝেড়ে ফেলে এক ধাপ উপরে উঠছিল।
যখন কৃষকের প্রতিবেশীরা প্রাণীটির উপরে মাটি ফেলতে লাগল, তখন সে মাটি ঝেড়ে ফেলে এক ধাপ উপরে উঠতে লাগল।
খুব শীঘ্রই, সবাই অবাক হয়ে দেখল গাধাটি কূপের কিনারা পেরিয়ে উপরে উঠে আনন্দে ছুটে চলে গেল!
কূপের গাধা গল্পের নৈতিক শিক্ষা: জীবন আপনার উপর মাটি ফেলবে, নানা ধরনের মাটি। কূপ থেকে বের হওয়ার কৌশল হলো মাটি ঝেড়ে ফেলে এক ধাপ উপরে ওঠা। আমাদের প্রতিটি সমস্যা একটি করে ধাপ। আমরা হাল না ছেড়ে, কখনও থেমে না গিয়ে গভীরতম কূপ থেকেও বের হতে পারি!
জঞ্জাল-মাটি ঝেড়ে ফেলুন আর এক ধাপ উপরে উঠুন।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার 5 টি জনপ্রিয় লোককাহিনী পড়ুন
কূপের গাধা গল্পের বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
গল্পটি একটি সাধারণ ঘটনার মাধ্যমে জীবনের একটি গভীর সত্য তুলে ধরে। একজন কৃষক তার বৃদ্ধ গাধাকে কূপ থেকে উদ্ধার করতে না পেরে কূপটি মাটি দিয়ে ভরাট করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবেশীরাও এসে মাটি ফেলতে শুরু করে। গাধাটি প্রথমে বুঝতে পেরে খুব কষ্ট পায় এবং চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু তারপর সে বুঝতে পারে যে, চিৎকার করে কোনো লাভ নেই। বরং তাকে নিজের চেষ্টায় বাঁচতে হবে।
গাধাটি প্রতিটি কোদাল মাটি পড়ার সাথে সাথে মাটি ঝেড়ে ফেলে এক ধাপ করে উপরে উঠতে থাকে। তার এই প্রচেষ্টা সবাইকে অবাক করে দেয়। শেষ পর্যন্ত, গাধাটি কূপের কিনারা পেরিয়ে উপরে উঠে আসে এবং আনন্দে ছুটে চলে যায়।
এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, জীবনে কঠিন পরিস্থিতি আসবেই। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি সমস্যাকে একটি ধাপ হিসেবে দেখতে হবে এবং সেই ধাপ পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
কূপের গাধা গল্পের মূল শিক্ষা:
- বিপদে ভেঙে না পড়া: জীবনে কঠিন পরিস্থিতি আসবেই, কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
- আত্মবিশ্বাস: নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে, কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া সম্ভব।
- ধৈর্য: ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
- ইতিবাচক মনোভাব: প্রতিটি সমস্যাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।
- প্রচেষ্টা: চেষ্টা চালিয়ে গেলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
- হাল না ছাড়া: জীবনে যত কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেনো, কখনো হাল ছাড়া যাবে না।
- সমস্যাকে সুযোগ হিসেবে দেখা: জীবনের প্রতিটি সমস্যাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। সমস্যা থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।
- আত্ম-উন্নয়ন: প্রতিটি সমস্যার সমাধান করার মাধ্যমে নিজের আত্ম-উন্নয়ন করা সম্ভব।
- জীবন একটি সংগ্রাম: জীবন একটি সংগ্রাম, তাই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হবে।
এই গল্পটি আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমাদের উচিত বিপদে ভেঙে না পড়ে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। প্রতিটি সমস্যাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।